প্রতীকী ছবি

একদিনে ছয় জেলায় ১৫ জনকে হত্যা

একদিনেই দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আর একইসময়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুজনের। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ঘরে ঢুকে দুই শিশুসহ এক পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর ঠাকুরগাঁওয়ে দুই সন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পুকুরে ভাসমান অবস্থায়। যশোর সদরের বলরামপুরে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এছাড়া নরসিংদী, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে পৃথক হত্যার ঘটনায় আরও চারজন মারা গেছেন। অন্যদিকে ঢাকায় পৃথক দুই ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবমিলিয়ে বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয় জেলায় হত্যার শিকার হয়েছেন ১৫ জন। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুইজনের লাশ।

সাতক্ষীরা:

বৃহস্পতিবার সকালে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতরা হলেন- খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি ও মেয়ে তাসনিম।

কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল জানান, নিজেদের ঘরের মধ্যে গৃহকর্তা শাহিনুর রহমানসহ চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। ছাদের চিলেকোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরে ঢুকে তাদের হত্যা করতে পারে।

ঠাকুরগাঁও:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে পুকুর থেকে মা ও তার দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধর্মগড় ভরনিয়া শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে আকবর হোসেনের স্ত্রী আরিদা খাতুন, তার মেয়ে আঁখি ও ছেলে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাণীশংকৈল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাহিদ ইকবাল জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

যশোর: সদরের বলরামপুরে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে বাঁধন ও আহাদ আলী নামের এই দুই যুবককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাদের কুপিয়ে হত্যা করে বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান। নিহত যুবকদের একজন ঘটনাস্থলে আর অন্যজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। কে বা কারা কি কারণে তাদের হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

রাজধানী:

রাজধানী ঢাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের একটি বাসা থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নারীর স্বামী পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের পাশের ঝোপঝাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম রাজিব শিকদার। তিনি গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, এটা হত্যাকাণ্ড নাকি অন্যকিছু বিষয়টি তদন্তের পরে বলা যাবে। ওই নির্মাণাধীন ভবনের বেশ কয়েকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ: ঢাকার পাশের জেলা মানিকগঞ্জের ঘিওরে বাবলি আক্তার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে তার স্বজনদের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড। শ^শুরবাড়ির লোকজনের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, গৃহবধূ বাবলির লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

একই জেলার দৌলতপুরে জলাশয়ে জুতা তুলতে গিয়ে তলিয়ে যাওয়া নুরুজ্জামান রিমনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রিমন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ইন্টার্ন করছিলেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নরসিংদী:

নরসিংদীতে চাচা শ্বশুরের ছুরিকাঘাতে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার চরাঞ্চলের আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জরিনা বেগম ওই গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, সকালে পারিবারিক কলহের জেরে চাচা শ্বশুর আসাদ মিয়ার সঙ্গে জরিনার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আসাদ মিয়া জরিনাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জরিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দত্ত।

হবিগঞ্জ: 

মাধবপুরে ঘরে ঢুকে রাস্টু মিয়া পাঠান নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাষ্টু মিয়া পাঠান উপজেলার পূর্ব মাধবপুর এলাকার গুণী মিয়ার ছেলে। মাধবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, ঘরে ঢুকে রাষ্টু মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ ফজর আলী ও তার লোকজন। পরে পরিবারের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ১০ গত অক্টোবর মাধবপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাস্টু প্রতিপক্ষের দ্বারা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, যশোর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি এবং নিজস্ব প্রতিবেদকদের তথ্যের সহায়তা নেয়া হয়েছে।]

সূত্র- ঢাকাটাইমস/১৫অক্টোবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*